বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবার ৮ বছর পর পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করছেন। দীর্ঘ সময় ধরে শারীরিক অসুস্থতা এবং গৃহবন্দী অবস্থায় থাকার পর যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে ছেলে তারেক রহমান, দুই পুত্রবধূ ও তিন নাতনীকে নিয়ে ঈদ করছেন তিনি। এ কারণে এবারের ঈদ তার জীবনে বিশেষ কিছু।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, “খালেদা জিয়া বর্তমানে লন্ডনে সুস্থ আছেন এবং পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করেছেন। এটি আমাদের জন্য একটি আনন্দের মুহূর্ত।”

খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, ‘ম্যাডাম ওনার বড় ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেবের বাসায় আছেন। ঈদের দিনটি উনি বাসায় আপনজনদের নিয়ে একান্তে কাটিয়েছেন। বাসায় দুই পুত্রবধূ (ডা. জোবাইদা রহমান ও সৈয়দা শর্মিলা রহমান) আছেন। আছেন তিন নাতনি (ব্যারিস্টার জায়মা রহমান, জাফিয়া রহমান, জাহিয়া রহমান)। ম্যাডামকে ঘিরে ঈদের সব আয়োজন তারাই সাজিয়েছেন। কারণ দীর্ঘ কয়েক বছর পর ম্যাডাম তার আপনজনদের সঙ্গে ঈদ করছেন। বুঝতেই পারছেন এখানে অনেক আবেগ জড়িত।’

তিনি আরও বলেন, “খালেদা জিয়া এখন আগের চেয়ে অনেকটা ভালো আছেন। তার অবস্থা আগের থেকে মাচ বেটার।

খালেদা জিয়া দেশবাসীসহ দলীয় নেতাকর্মীদের ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বলে জানান তিনি।

এর আগে ২০১৭ সালে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গিয়ে ছেলের বাসায় ঈদুল আজহা উদযাপন করেছিলেন। এরও আগে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রায় আট বছর পর লন্ডনে পরিবারের সদস‌্যদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করেছিলেন।

বাসায় দুই পুত্রবধূ (তারেক রহমানের স্ত্রী জোবাইদা রহমান ও প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শর্মিলা রহমান) আছেন, আছেন তিন নাতনী (তারেকের মেয়ে জাইমা রহমান, কোকোর দুই মেয়ে জাফিয়া রহমান, জাহিয়া রহমান)। বেগম জিয়াকে ঘিরে ঈদের সব আয়োজন তারাই সাজিয়েছেন। কারণ দীর্ঘদিন পর আপনজনদের সঙ্গে ঈদ করছেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে বিএনপির চেয়ারপারসন দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী ছিলেন। তার চারটি ঈদ কেটেছে কারাগারে ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের এক আদেশে খালেদা জিয়া মুক্তি পান। এরপর দুর্নীতির যে দুটি মামলায় তিনি কারাবন্দী হয়েছিলেন সেগুলোর রায় বাতিল করে আদালত।